বাংলাদেশ অবশ্যই একটা সাম্প্রদায়িক দেশ।
বাংলাদেশ অবশ্যই একটা সাম্প্রদায়িক দেশ। এই ভূখন্ডে দুইটা বৃহৎ সম্প্রদায় বাস করে। একটা হল আওয়ামীলীগ, আরেকটা হল বিএনপি!
গণপরিবহনে একসাথে বসে মুসলমান আর হিন্দু যাতায়াত করে। কই কেউ তো কাউকে তোলে দেয়না। একই বাজারে মুসলমান হিন্দু একইসাথে কেনাবেচা করে। সেখানে তো ধর্মীয় কারণে কোনো মারামারি হয়না। একই রেস্টুরেন্টে সব সম্প্রদায়ের লোকেরা যাওয়া আসা করে। স্কুল কলেজে একইসাথে সবাই পড়াশুনা করছে, কই সেখানে তো কোনো সমস্যা হচ্ছেনা।
কিন্তু, যত সমস্যা মারামারি কাটাকাটি সবগুলো আওয়ামীলীগ আর বিএনপি এই দুইটা রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে। হাটবাজার বলেন, কলেজ ইউনিভার্সিটি বলেন কিংবা অন্য কোনো পাবলিক প্লেসের কথা বলেন যত দাঙ্গাহাঙ্গামা হয় সব কিন্তু এই দুই সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যেই।
আর এই রাজনৈতিক সমস্যা গুলোকে আরো ঘনীভূত করার নতুন মন্ত্র হল 'অসম্প্রদায়িক' শব্দটা। এই শব্দটি দ্বারা আমভাবে বৃহৎ গোষ্ঠীকে ধর্মীয়ভাবে সুকৌশলে উস্কে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু করা হয়নি। যারা এই জিকিরের প্রসার ঘটিয়েছে মূলত তারাই ধর্মীয় ঠেলাঠেলির বীজ বপন করে দিয়েছে।
আর এটা অবশ্যই কমন সেন্সের একটা বিষয়, যে কোনো ভূখন্ড প্রভাবিত হয় সে ভূখন্ডের সংখ্যাধিক্যের মতাদর্শ আর সংস্কৃতি দ্বারা।
আপনার আদর্শ আমেরিকা। অথচ, সেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট শপথ নেয় তাদের বাইবেল ছুঁয়ে। কারণ সেটা খৃস্টান প্রধান দেশ, সুতরাং সেখানকার কালচার খৃষ্টীয় ধর্মের আদলে হবে সেটাই স্বভাবিক। তারা ঈসা আঃ (যীশুখ্রিষ্টের) মূর্তি রাখে। কেউ যদি বলে সেখানে অন্য ধর্মের দেবতাদের মূর্ত রাখতে তবে আপনিই বলবেন সেটা সেই দাবি অগ্রহণযোগ্য। কিংবা কোনো খৃস্টান রাজনীতিবিদ তাদের মূর্তির পাশে অন্য কোনো মূর্তি রাখে তবে সেখানকার জনসাধারণ প্রতিক্রিয়া দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। এটা একদম সিম্পল একটা বিষয়।
প্রত্যেক দল, গোত্র কিংবা জাতির মৌলিক কিছু নিয়মনীতি অবশ্যই আছে। কেউ যদি সেই সব নিয়মের বহির্ভূত কিছু করে তবে সেই গোত্রের অন্যান্য লোকজন তাকে বিষয়ে বলার অধিকার অবশ্যই রাখে।
এমনি তো সারাদিন 'অসাম্প্রদায়িক আর উদারতার ' জিকিরে ব্যস্ত থাকেন। এখন আওয়ামীলীগের কোনো সদস্য যদি জিয়ার কবরে ফুল দিতে যায় কিংবা বিএনপির কেউ যদি হাসিনার জন্মোৎসবে যায় উভয় দলের অন্যান্য লোকজন এটা নিঃসন্দেহে পজিটিভলি নিবেনা। কেউ সেটাকে উদারতা বলবেনা!
ধরুন, আপনার কাছের এক বন্ধু মদ পান করেনা। কিন্তু, সে যদি কোন মদের আড্ডাখানায় যায় তবে সে মদ পান না করলেও আপনি অবশ্যই সেটার সমালোচনা করবেন। সে যদি সেটাকে উদারতা দাবি করে তবে আপনি সেটাকে মূর্খতা কিংবা বেয়াড়াপনা বলবেন! এটাই সায়েন্স।
এখন কেউ যদি তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তবে সে করুক। কিন্তু, সে যদি তার প্রবৃত্তির ইচ্ছানুসারে সম্পাদিত কর্মকান্ড গুলোকে যদি দ্বীন হিসেবে আখ্যায়িত করে তবে তার ব্যাপারে আলোচনা সমালোচনা করা স্বাভাবিক এবং অত্যাবশ্যক!
Comments
Post a Comment