নীতিকথা বনাম বাস্তবতা

 আমরা সুদ খাইনা,  কিন্তু অন্যকে সুদে জড়াতে বাধ্য করি।

খুব সুন্দর করে নসিহত করি, "সামর্থ্য যতটুকু আছে তার বাইরে কিছু করার কোনো দরকার নাই।" কিন্তু, নিজে যদি দাওয়াতের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় তখন আমাদের মাথা আর ঠিক থাকেনা। তখন বদনাম শুরু করে দিই।

 মানুষ একটা মারা গেলে হয়। তখন আশেপাশের সবাই এতিম হয়ে যায়। তৌফিক যতটুকু আছে ততটুকু এতিম মিসকিনদের খাওয়ানোর ফতোয়া দিই। কিন্তু, এতিমদের তালিকা থেকে যদি আশেপাশের সুশীল ধার্মিকদের নাম বাদ পড়ে যায় তখন সবাই যুদ্ধে নেমে পড়ে ওয়াহাবি বানিয়ে দেওয়ার জন্য। আর নিজেকে ওয়াহাবির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য মানুষ সামর্থ্য না থাকলে এনজিও গুলো থে‌কে ঋণ নিয়ে হলেও একটা খাওয়ার পার্টির আয়োজন করে। অথচ, মৃত ব্যক্তির যদি ঋণ থাকে সেটা পরিশোধ করা আরো বেশি জরুরী ছিল।

 কিছু কিছু ঐচ্ছিক বিষয় যা দ্বীনের আবশ্যিক কোনো বিষয় নয়। কিন্তু সামাজিকভাবে পালন করাটাকে আমরা দ্বীনের আবশ্যিক বিষয় মনে করি। আর কোনো কারণে কেউ তা পালন করতে না পারলে আমরা তাকে জাহান্নামী বানিয়ে ছাড়ি। আর সেসব হেনস্তা থে‌কে বাঁচার জন্য সে আর্থিকভাবে সামর্থ্য না থাকার কারণে সুদের ঋণে জড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ঘুষখোর সুদখোর এদের সারাবছর গালিগালাজ করি। কিন্তু, সুদখোর ঘুষখোর এই রকম কেউ যদি তার অবৈধ টাকা দিয়ে বিশাল বড় মেজবান একটা দেয় তখন আমরা সবাই জিহ্বা বের করে দৌড় দিই! আর তারে জান্নাতি বানিয়ে দিই।

Comments

Popular posts from this blog

So called progressiveness and our reality

লিবারেল ডেমোক্রেসির ইসলাম বিদ্বেষীতার মুখোশ

বাস্তবতা এবং তথাকথিত প্রগতিশীলতা