ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার
রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে কারাই বা পিছিয়ে আছে? যেখানে ইসলাম বিদ্বেষী সেকুলার গোষ্ঠী পর্যন্ত ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিতে বসে থাকে সেখানে কেবল জামাত শিবিরের ক্ষেত্রেই কেন ধর্মকে ব্যবহার করার অভিযোগ চলে আসে? মোমবাতি, হাতপাখা, তরিকত ফেডারেশন ইত্যাদি দলগুলোও কিন্তু ধর্মীয় ট্যাগে গড়ে উঠা। মতবিরোধ থাকলেও জামাত শিবির যেসব প্রতিশ্রুতি দেয় তদ্রূপ অন্যান্যও ধর্মভিত্তিক দল গুলোও ঠিক একই কথা বলে। কিন্তু আমরা ট্যাগ লাগাচ্ছি জামাত ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করতেছে, তো অন্য দল গুলো ধর্ম আরেকটার নাম ব্যবহার করে নাকি? ওদের কার্যক্রম নিয়ে হয়তো প্রশ্ন তোলা যায়, মতবিরোধ করা যায়। এটা ভিন্ন টপিক। কিন্তু ধর্মীয় ট্যাগ কেন একা ওদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে? একাত্তরের সময় ওরা রাজাকার ছিল ভালো কথা। কিন্তু ধর্মের নাম ব্যবহারকারী অন্যান্য দল গুলো যেসব খানকা দরবার থেকে জন্মলাভ করেছে সেসব খানকা দরবার গুলোর একাত্তরের সময় কি ভূমিকা ছিল? জামাত যেমন নারী নেতৃত্বের অধীন বিএনপির সাথে জোট হওয়ার ব্যাপারটা কৌশল অবলম্বন হিসাবে যুক্তি দেয় ঠিক একইভাবে আওয়ামিলীগ এর সাথে শরিক ইসলামি ট্যাগ লাগানো দল গুলোও একই যুক্তি দেখাবে। মোদ্দা কথা হচ্ছে যার ধান্দায় সে আছে। সারা বছর ধর্মনিরপেক্ষতা আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবক দেয় তারা পর্যন্ত এখন একেকজন মস্ত বড় সুফি দরবেশ হয়ে গেছে! একজন তো নিজ দলীয় প্রতীককে নূহ (আঃ) এর নৌকা বলে দাবি করে বসেছে। নূহ (আঃ) এর নৌকা তো ধর্মনিরপেক্ষ ছিলনা। ঐ নৌকায় কোনো কাফের মুশরিকদের স্থান দেওয়া হয়নি, ঐ নৌকায় স্থান পেয়েছিল গুটিকয়েক লোক। এবার আপনার তরী থেকে কাফের মুরতাদ মুশরিক গুলোকে নামিয়ে দেন!
আবার যে ধর্মনিরপেক্ষতার কারণে বিএনপি পন্থী লোক গুলো আওয়ামিলীগকে একাকীভাবে নাস্তিক মুরতাদ বলে আখ্যায়িত করছে ঠিক একই কথা নিজের দলের পক্ষ থেকে আসলে কমেন্টে গিয়ে উলুধ্বনি দেয়!
হক বা বাতিল যেটাই হোক যে যেই দল সমর্থন করে ঘুরেফিরে সেটার পক্ষেই সাফাই গায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা!
Comments
Post a Comment