বাস্তবতা বনাম আমাদের নীতিকথা
অপ্রিয় হলেও এটাই সত্য আমাদের লিখিত নীতির সাথে বাস্তবতার দূরত্ব বিশাল। বিয়ের যৌতুক প্রথা নিয়ে প্রায় সবাই সমালোচনা করে। কিন্তু, দাওয়াত পেলে কুকুরের মত জিহ্বা বের করে দৌড় দেয়। গিলার সময় নীতি আর জীবিত থাকেনা। তখন সামাজিকতা রক্ষা করা গুরু দায়িত্ব হয়ে যায়। হয়তো কিছুদিন পর মদ পানের দাওয়াত দিলেও তখনও মদ হারাম ফতুয়া পোস্ট দিয়ে সামাজিকতা রক্ষার জন্য সবাই মদ পানের দাওয়াতে ছুটে যাবে।
এখন আবার যৌতুকের ভার্সন চেঞ্জ হয়েছে। শিক্ষিত সমাজ এখন আর যৌতুক নেয়না। তারা এখন উপহার আদানপ্রদান করে! মদকে শরবতের বোতলে ঢেলে সেটাকে শরবত হিসেবে পান করার মত।
কোনো রকমের লেনদেন বা বিনিময়ের বাধ্যবাধকতা ব্যতীত কাউকে কিছু প্রদান করা উপহার। কিন্তু, যখন সেটা সামাজিক প্রথা বা নিয়মে রূপান্তরিত হয়ে যায় তখন সেটাকে আর উপহার বলা যাবেনা। যারা উপহার দিচ্ছে বলে দাবি করেন তাদেরকে যদি বলা হয় এসব তারা কেন দেয়, এত আয়োজন কেন করে। অধিকাংশ লোক উত্তরে বলবে, "ছেলে পক্ষ কিছু দাবি করেনি। কিন্তু, সামাজিকতা তো রক্ষা করতে হবে। কিছু না দিলে মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে মন ছোট করে থাকতে হবে।" ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা যৌতুক বিরোধী স্লোগান দেয় তারাও দেওয়া নেওয়া থেকে বিরত থাকেনা। উত্তর গুলো শুনলে স্পষ্ট বুঝা যায় প্রত্যক্ষভাবে কিছু দাবি না থাকলেও পরোক্ষভাবে সেটার প্রতিফলন হয়।
সবাই কেবল জায়েজ করতে চাই ঠিক সেইভাবে, যেভাবে দাঊদ (আঃ) এর সময় অভিশপ্ত ব্যক্তি গুলো শনিবারে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় শনিবারে মাছ গুলো আটকে রেখে রবিবারে সেই মাছ ধরে এনে সেটাকে জায়েজ করতে চেয়েছিল।
আর বিয়ের দেন মোহর নিয়ে কি আর বলব? অধিকাংশ মেয়ের অভিভাবকদের ভূমিকা তখন গরুর বাজারে বলদ গরুর দালালদের মত হয়ে যায়।
Comments
Post a Comment